চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন
সাদিয়া মাকসুদ চৌধুরী নামে এক ভুক্তভোগী পরিবার।
সকাল ১২ টায় নগরীর চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত আকারে বক্তব্য রাখেন,’ ভুক্তভোগী মাকসুদা মাকসুদ চৌধুরী তিনি বলেন গত কয়েকদিন আগে এমদাদুল হক বাদশাহ কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যে অসত্য, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তার প্রতিবাদ স্বরুপ সঠিক তথ্য পুরো দেশবাসীকে জানানোর উদ্দেশ্যে আমাদের পরিবার আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আমি এমদাদুল হক বাদশার মিথ্যা বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
গত ২২-১১-২০০০ইং তারিখে মরহুম নুর নবীর কাছ থেকে ২৪৪৬নং (ছাফ কবলামূলে) ৭ শতক জায়গা একটানা ৭ দিনের জাতীয় পত্রিকা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্য যাচাই পূর্বক খরিদ করে ২৪ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছে। অন্য দিকে এমদাদুল হক বাদশা ২৪ বছর পরে ২২-০৪-২০২৪ তারিখে জামেনা খাতুন গং থেকে আমরক্তনামা মূলে ২শতক জায়াগার পাওয়ার নেয় দেখভাল করার জন্য। কিš‘ তার নামে কোন নামজারি খতিয়ান নাই। তার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। তার জায়গার অবস্থান মূল দাগের ২২ শতক জায়গার শেষ অংশে।
আরো উল্লেখ্য যে তার ২ শতকের অংশ অবৈধ ঘোষিত হয়ে সিভিল কোর্টে স্বত্তের মামলায় আছে। তার পাওয়ার মূলে পিছনের পাওয়া জায়গা থেকে সরে এসে আমাদের চকবন্ধ, চৌহদ্দী ও ডি সি আর করা জায়গায় এসে আওয়ামীলীগ সরকার থাকা কালীন সময়ে আমার সাত শতক জায়গার ভিতরে ঢুকে সন্ত্রাসী কায়দায় দলবল নিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। এখন আমার সাংবাদিক সমাজের কাছে প্রশ্ন! – কিভাবে আমরোক্তনামা মূলে ও সিভিল কোর্টের স্বত্বের মামলার জমি নিয়ে পিছন থেকে সামনে এসে আমাদের জমি কে নিজের জমি বলে দাবী করেন? যেখানে উনার (বাদশা) নামে ডি সি আর, নামজারি খতিয়ান কোনো কিছুই নাই। আবার আমাদের জায়গা খরিদ করা নুর নবীর কাছ থেকে এবং উনার পাওয়াকৃত ২ শতক জায়গা নিয়েছে জামেনা খাতুন গং থেকে। দুই জনের মালিক ভিন্ন। নুর নবী হলো বড় ভাই আর জামেনা খাতুন গং এর স্বামী হলো আব্দুর রহমান ছোটভাই। পুরো বিষয়টি যেখানে স্বচ্ছভাবে পরিস্কার বুঝা যায় আমাদের জমি তিনি (বাদশা) আত্মসাৎ করার মনমানসিকতায় দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন সেখানে আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আপনাদের সাংবাদিক সমাজকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে গত ১-১১-২০২৪ তারিখে সংবাদ সম্মেলন করেন।
তাঁর সংবাদ সম্মেলনে আমাকে ছাত্রলীগ নেত্রী বলে উপাধী দিয়েছে। নেত্রী হলে আমার অবশ্যই পদ পদবী থাকত। আমি যদি ছাত্রলীগ বা আওয়ামী নেত্রী হতাম তাহলে আওয়ামী সরকারের আমলে আওয়ামি নেত্রী হিসেবে কোন না কোন পদে আমার নাম থাকতো। আমি এটা পরিষ্কার ভাবে জানাতে চাই আমি বা আমার পরিবারের কোন সদস্য আওয়ামী লীগের সদস্য বা আওয়ামী রাজনীতির সাথে কেউ সম্পৃক্ত নই। সংবাদ সম্মেলনে বাদশা ভাই যা উপস্থাপন করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক কিছু বক্তব্য ছাড়া আর কিছুই নয়। যার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
আমি, আমার মা-বাবা ভাইয়েরা কেউ কোন দিন বাংলাদেশের কোনো রাজনীতীর সাথে সম্পৃক্ত হইনি বা ছিলাম না। আমরা দেশের শান্তি প্রিয় সাধারণ নাগরিক। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে সেই সরকারের কাছে বিপদে আপদে আমরা সাহায্য চাইবো-সাধারণ নাগরিক হিসেবে এটাই স্বাভাবিক।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে আমাকে আওয়ামী সরকারের দোসর বানানোর মিথ্যা চেষ্টা করলেও আমার আশপাশের বা স্থানীয় লোকজন কেউ এই তথ্য বিশ্বাস করেনি। সাংবাদিক সমাজকে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার অনুরোধ করছি। আমাকে আওয়ামী সরকারের দোসর আখ্যা দিয়ে এলাকা বা ঘর ছাড়া করার চেষ্টা এখনো অব্যাহত রেখেছেন বাদশা ভাই, যার ফলে আমি নিরাপত্তাহীনতা সহ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। বিষয়টি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও চসিকের মেয়র মহোদয়ের কাছে অনুরোধক্রমে আবেদন করছি। আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করে সুষ্ঠুভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিন।
এমদাদুল হক বাদশা বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় নিয়ম শৃংখলা পরিপন্থী কাজ করার কারনে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন, তবুও তার আগ্রাসি মনোভাব কিঞ্চিত পরিমান কমেনি, বরং দাপটের সহিত নানা অপরাধ মূলক কাজের সাথে জড়িত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। যা সাধারণ মানুষের জন্য দুঃশ্চিন্তাসহ আতঙ্কের কারন।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার সাথে কথা তিনি সাংবাদিকদের জানান,’ সরকার পতনের আগের একটি ভিডিও ধারন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। আসলে বিষয়টি পরিস্কার যে এটা আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা করে এসব কাজ করছে।
Leave a Reply