নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘স্যার, লাইসেন্স করাইবেন নাকি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করাইবেন? আপনার কষ্ট কইরা করা লাগবো না; আমরা কইরা দিমু। আপনে খালি কতক্ষণ অপেক্ষা করবেন।
সরকারি যা খরচ হইবো তার চাইয়া ৫ হাজার ট্যাকা বেশি দিবেন স্যার। ’কথাগুলো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)হালিশহর মেট্রো সার্কেল ১ কার্যালয়ে অবস্থানরত দালালদের।এসব সরকারি কার্যালয়ে যারা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বা ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসেন, প্রতিনিয়ত শুনে থাকেন।
বিআরটি এ’র আশীর্বাদে কোটি টাকার মালিক এ দালাল চক্রের জসিম ও মহিউদ্দিন।এসব দালালের হাত রয়েছে বিআরটিএর নতুন লাইসেন্স তৈরি- নবায়ন, নতুন-পুরনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তন, গাড়ি ও ড্রাইভিং স্কিল টেস্টের কাগজ পত্র।
সূত্রে জানা যায়,বিআরটিএ’র আশীর্বাদে কোটি টাকার মালিক বনে গেল সিন্ডিকেটের দালাল মো:জসিম( বরিশাল জসিম) নামে পরিচিত বিআরটিএতে। অন্য দিকে মো:মহিউদ্দিন (কাটিং মহিউদ্দিন) রয়েছে একি কায়দায়।
একসময়ে সিকিউরিটি নাইটগার্ডের চাকরি করলেও বর্তমানে দুইজনের সম্পদের হিসাব কোটি টাকা পেরিয়ে। দালালি করে বনে গেলো কোটি টাকা মালিক। চট্টগ্রাম শহরে গড়ে তুলেছেন সম্পত্তির পাহাড়।
নতুন লাইসেন্স তৈরি- নবায়ন, নতুন-পুরনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তন, গাড়ি ও ড্রাইভিং স্কিল টেস্ট এসব সংক্রান্ত যে কোনো কঠিন কাজ বিআরটিএ সিনিয়র কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিমিষেই করে নেন জসিম ও মহিউদ্দিন। দরকার পড়ে কোন নিয়মনীতি, টাকা দিলে মিলে ইমারজেন্সি সব কিছু। বিনিময়ে নিয়ে থাকেন বিশাল অংকের অর্থ।টাকার বিনিময়ে যে কাউকে মিলিয়ে দেন খুব সহজে ড্রাইভিং লাইসেন্স। অবৈধভাবে বড় গাড়ি ছাড়াই পাওয়া যায় ফিটনেস,মালিক ছাড়া মালিকানা। এভাবে করে দালালদের হাতে লেনদেন হয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা।
বয়সের সাথে সাথে চালাকচতুর ও বিআরটিএ হালিশহর মেট্রো ১ অফিস সহকারি কম্পিউটার পদে পরিচয়ে জসিম ও মহিউদ্দিন।অফিসে নিজের ক্ষমতা দেখানোর জন্য অবৈধভাবে সাবেক আওয়ামী সরকারের বড় বড় পদে থাকা নেতাদের কাজ করে দেন খুব সহজে।
এমনটাই অভিযোগ মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে।সরকারি অফিসে স্টাফ না হয়েও ইউজ করছেন অফিসের ডেস্ক,কম্পিউটার এবং চেয়ার।
জসিম মহিউদ্দিনের সেখানে রয়েছে দালালের আধিক্য। যারাই বিআরটিএ যান, তাদের পেছনেই লেগে যায় দালাল চক্রের সদস্যরা।
আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা নিজের কর্ম সারেন, লেনদেন করেন। বিআরটিএ কার্যালয়ে এ পরিস্থিতি বিদ্যমান। তা ছাড়া দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে ভোগান্তি বাড়ত আরও বহুগুণে।
একদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে, নবায়ন করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বারবার সময় দিয়েও কথা রাখতে পারছে না বিআরটিএ। কিভাবে দালাল চক্র এত দ্রুত সময়ে এসব কাগজ পত্র রেডি করে দেন জনমনে প্রশ্ন?দালালের মাধ্যমে কাজ তাড়াতাড়ি হয় বলেও স্বীকার করেছেন সেবা গ্রহীতারা।
এবিষয় মুঠোফোনে কথা হলে জসিম বলেন,বিআরটিএ আমি কোন চাকরি করি না।মাঝে মধ্যে যায় যদি কম্পিউটারে কোন কাজ থাকে তাহলে সেটা করি। চাকরি তো করি না, কি করে খাব?মাঝে মাঝে একটু বিআরটিএ যায় এ আরকি।
কথার চলে বুঝতে দেরি নেই এই চক্রটি বিআরটিএ দালাল।
বিআরটিএর কর্মকর্তারা বলেন , আমরা সবসময় চেষ্টা করছি বিআরটিএকে দালালমুক্ত করতে। দালাল ধরা মাত্রই আমরা ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দিই।শাস্তির আওতায় আনি। তারপরও দ্রুত সময়ে কাজ করিয়ে নিতে কেউ দালালদের খপ্পরে পড়ে গেলে সেই দায়ভার তো আমাদের না। আমাদের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে, কোনো রকম দুর্নীতি করা যাবে না।
Leave a Reply